প্রকৃতির ভাণ্ডারে এমন কিছু গাছ রয়েছে যা আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানকেও তাক লাগিয়ে দেয়। তেমনই একটি বিস্ময়কর গাছ হলো করোসল (Corossol), যাকে অনেকেই গ্রেভিওলা (Graviola) বা টক আতা হিসেবে চিনে থাকেন। ইদানীং বাংলাদেশে এই গাছের চাহিদা তুঙ্গে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই দুষ্প্রাপ্য গাছ কোথায় পাওয়া যায়?
করোসল গাছ আসলে কী?
করোসল হলো মূলত গ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চলের একটি ফলদ গাছ। এর ফল দেখতে অনেকটা আতা বা শরীফার মতো হলেও আকারে বড় এবং গায়ে নরম কাঁটা থাকে। এর স্বাদ টক-মিষ্টি এবং ভেতরটা সাদা ও রসালো।
করোসল গাছ কোথায় পাওয়া যায়?
করোসল গাছ মূলত আর্দ্র ও উষ্ণ জলবায়ুতে ভালো জন্মায়। এর প্রাপ্তিস্থানগুলোকে আমরা দুই ভাগে ভাগ করতে পারি:
১. ভৌগোলিক অবস্থান
-
আদি নিবাস: এই গাছটি মূলত মধ্য আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা (বিশেষ করে আমাজন রেইনফরেস্ট) এবং ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের আদি উদ্ভিদ।
-
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া: বর্তমানে থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং ভিয়েতনামে প্রচুর পরিমাণে করোসলের চাষ হয়।
২. বাংলাদেশে প্রাপ্তিস্থান
বাংলাদেশে এই গাছটি আগে খুব একটা দেখা না গেলেও বর্তমানে নার্সারিগুলোতে এটি পাওয়া যাচ্ছে:
-
বিশাল নার্সারি সমূহ: ঢাকা (সাভার, গাবতলী), নাটোর এবং ময়মনসিংহের বড় নার্সারিগুলোতে এখন করোসলের কলম করা চারা পাওয়া যাচ্ছে।
-
অনলাইন শপ: বিভিন্ন কৃষিভিত্তিক ফেসবুক পেজ এবং অনলাইন নার্সারি ওয়েবসাইট থেকে আপনি ঘরে বসেই এই চারা অর্ডার করতে পারেন।
-
গৃহস্থালি বাগান: বর্তমানে ঢাকা ও চট্টগ্রামের অনেক শৌখিন বাগানীরা তাদের বাড়ির ছাদে বা আঙিনায় ড্রামে এই গাছের চাষ করছেন।
কেন করোসল গাছ এতো জনপ্রিয়? (উপকারিতা)
করোসল গাছ শুধু ফলের জন্য নয়, বরং এর পাতার ওষুধি গুণের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। গবেষণায় দেখা গেছে:
-
ক্যানসার প্রতিরোধে: অনেক প্রাকৃতিক চিকিৎসকের মতে, করোসলের পাতা ক্যানসার কোষ ধ্বংস করতে কার্যকরী ভূমিকা রাখে (তবে এটি মূল চিকিৎসার বিকল্প নয়)।
-
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা: এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-সি এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে।
-
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: উচ্চ রক্তচাপ কমাতে এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে এর পাতা সিদ্ধ করে চা হিসেবে পান করা হয়।
-
সংক্রমণ রোধ: এটি শরীরের বিভিন্ন প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন কমাতে সাহায্য করে।